বিদ্যালয়ের ইতিহাস

বরঙ্গাইল গোপাল চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়টি শিবালয় উপজেলার (তদানীন্তন শিবালয় থানা) মহাদেবপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত বরঙ্গাইল নামক স্থানে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে ১৯২৪ সালের ১৮ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয়।

বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন বাবু যোগেশ চন্দ্র ঘোষ, পিতা—গোপাল চন্দ্র ঘোষ। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোক্তা ছিলেন বাবু নলিনী কান্ত ঘোষ এবং তাঁর ছেলে বাবু অবনীকান্ত ঘোষ (মাখন বাবু)।

মূল অর্থের যোগানদাতা ছিলেন বাবু যোগেশ চন্দ্র ঘোষ। তিনি ছিলেন বাবু নলিনী কান্ত ঘোষের চাচাতো ভাই।

প্রতিষ্ঠাকালে বিদ্যালয়টি টিনের ঘরে ছিল। বিদ্যালয়ে ইসলাম ধর্মের কোনো শিক্ষক ছিলেন না, কারণ সে সময় ইসলাম ধর্মাবলম্বী ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ছিল খুবই কম।

১৯২৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হতে বিদ্যালয়টি প্রথম স্বীকৃতি লাভ করে।

অত্র দত্ত পরিবার বিদ্যালয়ের শিক্ষা ও উন্নয়নের জন্য দীর্ঘদিন চা-বাগানের একটি বড় অংশের আয় ব্যয় করতেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের বিনোদনের জন্য বিদ্যালয়ের নামে একটি খেলার মাঠ প্রতিষ্ঠা করেন।

বাজার ও খেলার মাঠসহ বিদ্যালয়ের নামে দত্ত পরিবার ৫ একর ৩ শতাংশ জমি দান করেন।

দত্ত পরিবারের সদস্য অঞ্জলি রানী ঘোষ বিদ্যালয়ের খোঁজখবর রাখতেন এবং প্রতি মাসে ভারত বিচিত্রা নামক একটি মাসিক পত্রিকা বিদ্যালয়ে পাঠাতেন।

সভাপতিবৃন্দ

১৯৫০ সালের পূর্বে দীর্ঘদিন সভাপতি ছিলেন বাবু হরিদাস মুখার্জী
১৯৫০ সাল থেকে দীর্ঘদিন সভাপতি ছিলেন মরহুম তাজউদ্দিন আহমেদ
১৯৭৩ সাল থেকে দীর্ঘদিন সভাপতি ছিলেন মুজিব উদ্দিন আহমেদ মন্টু

পরবর্তীতে তিনি তিনবার মহাদেবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং শিবালয় উপজেলার প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন।

প্রধান শিক্ষকবৃন্দ

বাবু নগেন্দ্র মজুমদার (১৯২৪–১৯৪১)
সুধেন্দ্র নাথ ব্যানার্জী (১৯৪২–১৯৪৭)
বাবু কালিদাস বসু (১৯৪৮–১৯৫৫)
জানকীনাথ ভট্টাচার্য (১৯৫৫–১৯৫৭)
বাবু যোগেশ দত্ত (১৯৫৭–১৯৬৮)
জনাব মুহাম্মদ হোসেন উদ্দিন (১৯৬৮–১৯৮৯)
বাবু পার্থ সারথী ঘোষ (১৯৮৯–১৯৯৯)
জনাব মোঃ আরশেদ আলি (২০০০–২০১৩)

প্রধান শিক্ষক জানকীনাথ ভট্টাচার্যের নামে অত্র বিদ্যালয়ে ৫০,০০০/- টাকার "জানকীনাথ অ্যাওয়ার্ড" নামে একটি মেধাবৃত্তি চালু রয়েছে, যা বিগত ১০ বছর যাবৎ প্রদান করা হচ্ছে।

এক সময় বিদ্যালয়টি বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা লাভ করেছিল।